পথসভা, বৃক্ষরোপন ও চারাগাছ বিতরণ করে সাঁতরাগাছি ঝিল বাঁচানোর দাবি

ওয়েব ডেস্কঃ

দক্ষিণ হাওড়ার সাঁতরাগাছি ঝিল সংলগ্ন ফাঁকা জমিতে বেশ কিছু চারাগাছ রোপন, এবং স্থানীয় মানুষ, ক্লাব, স্কুলগুলিকে চারাগাছ বিতরণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য একটি পথসভা হল রবিবার সকাল। আয়োজনে হাওড়া জেলা বিজ্ঞান মঞ্চের অধীনস্থ সাঁতরাগাছি জগাছা শাখা এবং হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের নগর শাখা। রবিবার সকাল দশটার এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের  অ্যাডিশনাল ফরেস্ট অফিসার শ্রীকান্ত ঘোষ এবং রেঞ্জ অফিসার (নগর) নির্মল মন্ডল। ওই দুই আধিকারিক পরিবেশ রক্ষায় ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সাধারণ মানুষের আরও বেশি করে অংশগ্রহণের বিষয়টির ওপর জোর দেন।

পরিবেশ দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বারেবারেই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটছে। আয়লা, আমফান, ইয়স ঝড়ের তাণ্ডব তারই প্রমাণ। আশার কথা বৃক্ষ রোপনের জন্য সচেতনতা বেড়েছে সাধারণ জনমানসে। সরকারী বৃক্ষ রোপনের বাৎসরিক কর্মসূচি গত ১৪-২০ জুলাই শেষ হবার পর এখনও সারা জেলা জুড়ে আরো বেশি বেশি এই কাজে নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠনগুলি যুক্ত হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের হাওড়া জেলা সম্পাদক পার্থ ঘোষ, আহ্বায়ক শঙ্কর মুখার্জি, সভাপতি অসীম ব্যানার্জি এবং কিরীটি অধিকারী। আয়োজকরা বলেন কেবল চারাগাছ নিয়ে গেলেই হবে না। ঠিক মত রোপন করে অন্তত এক বছর এগুলোর পরিচর্যা করতে হবে। সংগঠনের উদ্যোগে এক বছর বাদে এগুলোর অডিট করা হবে এবং গাছগুলোর রোপন ও পরিচর্যা কারীদের সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। হাওড়া যৌথ পরিবেশ মঞ্চের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সন্দীপ বাগ, সম্রাট মন্ডল, সন্দীপ সরকার, শ্রীময় বাগ, শান্তনু চক্রবর্তী সহ অন্যান্য কর্মীবৃন্দ। যৌথ পরিবেশ মঞ্চের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সন্দীপ বাগ। তিনি বলেন গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে এই ভাবনাটা আসে। ব্রিটিশ এদেশে নির্বিচারে অরণ্য ধ্বংস করেছে এবং বন্যপ্রাণী হত্যা করেছে। পরবর্তী কালে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ন ও শিল্পের প্রয়োজনে বন, জলাজমি, পতিত জমি ধ্বংস হয়েছে এবং এখনও তা হয়েই চলেছে।

সাঁতরাগাছি স্টেশন ও সংলগ্ন অঞ্চলে এক সময় প্রবহমান ছিল সরস্বতী নদীর অংশ। এমনকি সাঁতরাগাছি ঝিলও সেই নদীর অংশ। ভারতের প্রাচীন জীবন দর্শনে মানুষ প্রকৃতির সাথেই সহাবস্থান করত। রবীন্দ্রনাথ অনেক আগেই বৃক্ষ রোপনের প্রয়োজনীয়তা ভেবে বর্ষামঙ্গল ও বৃক্ষ রোপনের কর্মসূচি নিয়েছিলেন। সেই ভাবনাই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

সাঁতরাগাছি ঝিল যাতে সারাবছর পরিষ্কার থাকে সেই দিকে দৃকপাত করে সাঁতরাগাছি ঝিল বাঁচাও কমিটির সদস্য গৌতম পাত্র বলেন ঝিলটি বাঁচাতে পদযাত্রা, স্থানীয় স্তরে সচেতনতা গড়ে তোলার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন বাকসাড়া স্পোর্টস একাডেমির কর্ণধার অলোক চ্যাটার্জি, পরিবেশ প্রেমী কমলিকা ভট্টাচার্য, মঞ্জু ঘোষাল, কাকলী মুখার্জীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *