“বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের বেশি মায়া-দয়া ওদের অন্তর্ভুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা”-বোমান ইরানী

ওয়েব ডেস্কঃ

ওদেরকে নিয়ে আমরা বড্ড বেশি ভাবি, বড় বেশি করুণা করি, বেশি মায়া মমতা দেখাই। আর সেটা শুধু সমাজ নয় বিশেষ শিশুদের বাবা মায়েরাও সেটা প্রায়শই করে থাকেন। আর এটাই ওদের সমাজের মূলস্রোতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের অনুষ্ঠান ‘পুরনাম’ ২০২১ (POORNAM) এ অংশগ্রহণ করে এভাবেই বিশেষ শিশুদের নিয়ে তাঁর ভাবনা ব্যক্ত করলেন বলিউড অভিনেতা বোমান ইরানি। বোমান বলেন, “We generally tend to overwork, over-pity, over-sympathize with special children which not only the society does but also the parents do”.

১ আগস্ট সেরিব্রাল পলসি, ডাউনস সিনড্রোম, অটিজ়ম স্পেক্ট্রাম ডিজ়অর্ডার, বধিরতা ও অন্যান্য শারিরীক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা সম্পন্ন মানুষদের নিয়ে একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উন্মীষ। সারা দুনিয়ার ৭০০র ও বেশী বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া তাদের আঁকা ছবি, পেইন্টিং, ফোটোগ্রাফ ও কলাকৃতি নিয়ে যোগ দেন এই অনলাইন অনুষ্ঠানে। সমগ্র অনুষ্ঠানটির ভাবনা উন্মীষের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক নীতা দেওয়ানের। ‘মহাবিশ্বের খোঁজ’ শীর্ষক এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করে শীর্ষ বাছাই ১০টি ছবি ও ফোটোগ্রাফ বেছে নেন চিত্র পরিচালক শুভজিত মিত্র। চলচ্চিত্রের মূলধারায় বিশেষভাবে চাহিদা সম্পন্নদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনিও জোর দেন।

পুরনামের এই আসরে এসে অভিনেতা আশীষ বিদ্যার্থী ভাগ করে নেন তার অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষ গুলির যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ভাষা কোনও অন্তরায় নয়। আশীষ বিদ্যার্থী বলেন এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের অন্যান্য বাচ্চাদের মত সমান অধিকার দেবার দাবিটা জোরদার হোক।

এই অনুষ্ঠানটি দেখাল পঞ্চতত্ত্বের বাইরে ও কীভাবে এই বিশেষ মানুষগুলি চিনে নেয় তাদের ষষ্ঠ তত্ত্ব সংগীতকে। ক্ষিতি, তেজ, অপ, মরুৎ ব্যোম এই পঞ্চতত্ত্বের সঙ্গে এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষ গুলির জীবনের অনেকটা জুড়ে থাকে সঙ্গীত। আর তাদের এই সঙ্গীত প্রতিভার মূল্যায়ন করলেন তালবাদ্যের পরিচিত নাম পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ। বিক্রম বলেন কীভাবে সঙ্গীত-শুশ্রুষা (Music Therapy) উপশমের কাজ করে বিশেষ মানুষজনদের সমস্যায়। এছাড়াও মানব মস্তিষ্কে সংগীতের প্রভাব নিয়েও বিস্তারে বলেন বিক্রম ঘোষ।

ভিন্নরূপে স্বক্ষম শিশুদের একটি নাচ ও গান দিয়ে শেষ হয় পুরনাম ২০২১। করোনা অতিমারিতে গৃহবন্দী ওই বিশেষ মানুষগুলিকে এক ঝলক তাজা হাওয়া দিয়ে গেল উন্মীষের এই আয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *