পরিযায়ী পাখিদের বাঁচাতে এবার পথে নামল পরিবেশপ্রেমিরা

ওয়েব ডেস্কঃ

হাওড়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলাশয় সাঁতরাগাছি ঝিলের সঙ্গে যুক্ত এলাকার বহু জীবন ও বাস্তুতন্ত্র। নির্ভরশীল অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদ। মানুষের প্রতিদিনের অবহেলায়, অসচেতন পরিকল্পনায়, আর পরিবেশের প্রতি অবজ্ঞার কারণে আজ বিপন্ন এই ঝিল।
পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে এই জলাশয়ে পড়ছে নোংরা, আবর্জনা। ক্রমশ বুজিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে সাঁতরাগাছির ঝিলকে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিরাট সংকটের সম্মুখীন হতে পারে হাওড়া শহর। বদ্ধ জলাশয়, নিকাশীর অ-ব্যবস্থা প্রতি বর্ষায় এলাকাকে জলমগ্ন করে তোলে। এখনই যদি সচেতনতার প্রসার না হয় তাহলে কেরলের মতো নজিরবিহীন বন্যার কবলে পড়তে পারে শহর হাওড়া।

এই ভাবনা থেকেই গত ১৭ জানুয়ারি ২০২১, রবিবার, সাঁতরাগাছি ঝিলকে বাঁচাতে হাওড়া জেলা পরিবেশ সমন্বয় মঞ্চ(Howrah Zila Paribesh Samanyay Mancha) ও হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের (Howrah Zila Joutha Paribesh Mancha) উদ্যোগে ১০০র ও বেশি ছাত্রছাত্রী, সাইকেল আরোহী, পরিবেশকর্মী পথ হাঁটলেন।

তাঁদের দাবি অবিলম্বে সাঁতরাগাছি ঝিলের নিকাশী ব্যবস্থার সুরাহা করে, সুলতানপুর খালকে সংস্কার করে ঝিলকে যুক্ত করা হোক গঙ্গার প্রবাহের সঙ্গে। দৈনন্দিন জোয়ার ভাঁটার স্রোতে যাতে প্রাকৃতিক ভাবে দূষণমুক্ত হয় এই ঝিল। সাঁতরাগাছি ঝিলে ফি বছর আসে পরিযায়ী পাখিদের (Migratory Bird) দল। তাদের নিরাপদ চারণক্ষেত্র (Habitat) হিসাবে গড়ে তুলতে এই পরিকল্পনা খুবই জরুরী। শহরের মধ্যে থাকা ঝিল সংলগ্ন এলাকাটি যাতে জেলা তথা রাজ্যের একটি দারুন পর্যটন কেন্দ্র (Tourism Centre) হিসাবে গড়ে ওঠে সেই দাবিও করেছেন ওই সংগঠনগুলির পক্ষে শঙ্কর মুখার্জি, শুভ্রদিপ ঘোষ, সম্রাট মন্ডল, সায়ন দে আলোক চ্যাটার্জি রা।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের রাজ্য সহসভাপতি,এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞানী তপন সাহা, অধ্যাপক পুনর বসু চৌধুরী পরিযায়ী পাখিদের আঁতুড় ঘর রক্ষা করবার এই উদ্যোগে পায়ে পা মেলান। এছাড়াও স্থানীয় বাকসারা স্পোর্টস একাডেমী, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ আর হাওড়া সাইকেল আরোহীর সদস্যরা লিফলেট বিলি করে আর পরিবেশ সচেতনতা মূলক ছবি নিয়ে অংশগ্রহণ করেন এই উদ্যোগে।

তবে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং লাগাতার জারি থাকা একটি প্রক্রিয়া না থাকলে সেই প্রক্রিয়া সুদুরপ্রসারি হয় না। সে ক্ষেত্রে সাঁতরাগাছি ঝিল সংলগ্ন রেল কর্তৃপক্ষের নির্মাণ কাজ এবং অপরদিকে হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অনুমোদনে বহুতল ঝিলের উদ্দেশ্যে আসা পরিযায়ী পাখিদের পরিযান পথে বাধার সৃষ্টি করছে। এই দুই সরকারি কর্তৃপক্ষের টনক না নড়লে সাঁতরাগাছি ঝিলের পুনরুদ্ধার অসম্ভব। এছাড়াও ঝিলের চারপাশে বেআইনি দখলদারি আর কর্পোরেশনের নর্দমা গুলির সরাসরি ঝিলে সংযোগের বিষয়টিও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সামলাতে হবে স্থানীয় রেল ও রাজ্য প্রশাসনকে। তবেই বাঁচবে সাঁতরাগাছি ঝিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *