বন্যা দুর্গতদের পাশে পরিবেশকর্মীরা

ওয়েব ডেস্কঃ

বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এলেন পরিবেশ কর্মীরা। প্রায় ১৫ দিনেরও বেশি হয়ে গেল রামপুর খালের বাঁধ ভেঙে হাওড়ার (Amta) আমতা ২ (Amta-2) ব্লকের জয়পুর থানার কামারগোড়িয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। জল কমতে শুরু করলেও দীর্ঘদিনের জমা জলে এলাকার মানুষজন নানান রকম সমস্যার সম্মুখীন। অনেকেই ছাদে ত্রিপল টাঙিয়ে দিনগুজরান করছেন। বেশিরভাগ বাড়িই মাটির, টিনের ও টালির চালায় ছাওয়া। গ্রামবাসীরা তাই নদীর বাঁধে অস্থায়ী আশ্রয়ে না হয় অন্যত্র চলে গিয়েছেন ঘরবাড়ি ছেড়ে। দুবেলা দুমুঠো রান্না করার মতও পরিস্থিতি নেই কারও। কয়েকটি সংগঠন ও গ্রামের মানুষের চেষ্টায় এই পনেরো দিন ধরে নিয়মিত রান্না করা খাবার পৌঁছে দেবার কাজ চলছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম। বৃহস্পতিবার প্রায় গোটা গ্রামের মানুষকে দুবেলার খাবার রান্না করে পৌঁছে দিতে এগিয়ে এল হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ – যাদের বন্যপ্রান উদ্ধারকারী দলের অনেক সদস্যের বাড়ি এই কামারগোড়িয়া গ্রামে।

বৃহস্পতিবার মুসলিম সম্প্রদায়ের দুঃখ ও ত্যাগের উৎসব মহরম। যদিও সরকারী তরফে শুক্রবার ছুটি ঘোষিত হয়েছে কিন্তু প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এই দিনটিও পবিত্র মহরমের আবহে। তাই এই দিনে কামারগোড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সদস্য শেখ মাকসুদ, সাথী সংগঠন খড়দহ নিউ এজ সোসাইটির সদস্যা জামিলা খাতুন সহ পরিবেশ কর্মী শুভ্রদীপ ঘোষ, সায়ন দে, সঙ্গীতা গিরি, সৌরভ হাজরা, প্রিয়া দাস রা দুহাজারের বেশি মানুষের জন্য খাবার তৈরি করেন। গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রিন মিডো আর গ্রামবাসীরা হাজির থেকে বন্যা দুর্গতদের হাতে সেই খাবার তুলে দেন।

ওই এলাকায় দীর্ঘদিন জল জমে থাকায় ছোটদের মন ভারাক্রান্ত হয়েছিল। গ্রামবাসীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে তারাও খুশি। তাই সবাই পরিবেশ কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। গ্রামে বন্যার জল কমে গেলেই সাপের উপদ্রব বাড়ে প্রতিবার। বহু সাপ মারাও পড়ে গ্রামবাসীদের হাতে। সেই সমস্যা মোকাবিলায় সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানান জেলা পরিবেশ মঞ্চের সম্পাদক শুভ্রদীপ ঘোষ। এলাকায় স্যানিটাইজেশন, ব্লিচিং ছড়ানোর কাজে পরিবেশ মঞ্চ এগিয়ে আসবে বলে জানান মঞ্চের কোষাধ্যক্ষ সায়ন দে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *