গান শুনল কাঞ্চনজঙ্ঘা, টয় ট্রেন আর ম্যাল

ওয়েব ডেস্কঃ

দার্জিলিং, দাওয়াইপানি উপত্যকা আর ঘুম স্টেশন মেতে উঠল দ্বিতীয় মাউন্টেন মিউজিক ফেস্টিভ্যালে। দাওয়াইপানির হিল ক্যাসেল হোম স্টের উঠোনে সেই গান শুনতে দিগন্ত জুড়ে সাক্ষী থাকল কাঞ্চনজঙ্ঘা। কলকাতার শিল্পীদের পাশাপাশি পাহাড়ি শিল্পীরাও গলা মেলালেন, গীটারে সুর তুললেন। দাওয়াইপানির অপরূপ পাহাড়ের কোলে সূর্য ওঠার থেকে সূর্য ডোবার পালায় পরতে,পরতে সুরের ছোঁওয়া থাকল লেগে। কখনও প্রভাতী রাগে সেতারের ঝঙ্কারে পাহাড়ি ধুন, কখনও বেহালা আর সেতারের যুগলবন্দির মাধ্যমে জন্মবার্ষিকীতে সত্যজিত স্মরণ। নেপালি গান, যন্ত্রসংগীত, রেট্রো মিউজিক থেকে বাংলা ব্যান্ডের গান, সব মিলিয়েই ছিল সুরের এই উদযাপন।

হিল ক্যাসেল হোমস্টে ছাড়াও গানের আসর বসে ঐতিহ্য প্রাচীন রেস্তোরাঁ গ্লেনারিজ। কফি আর কেক প্যাস্ট্রির গন্ধের মাঝে একটা নস্টালজিয়ার পথে পড়ন্ত বেলায় বেহালায় বেজে ওঠে রূপম ইসলামের সুর। সেতারে এ আর রহমনের সুরের ঝালা। গানে গানে কিশোর কুমার থেকে “দিল চাহতা হ্যায়” মাতিয়ে রাখে পাহাড়ের রানীকে।


কলকাতার শিল্পীদের গানে গ্লেনারিজ তখন সরগরম। এরপর গানের আসর জমে ওঠে দার্জিলিং এর ম্যালের পথে। স্থানীয় নেপালি সঙ্গীতশিল্পীদের বাজানো সারেঙ্গীর সঙ্গে যোগ হল উকুলেলে, গীটার, কাহন। সুর শুনে পথ চলতি উৎসাহি শ্রোতাদের ভিড় জমে। বিভিন্ন সময়ে রেলের কামরায় চিত্রায়িত হওয়া গান গেয়ে ঘুম স্টেশনে টয় ট্রেনের সামনে ভারতীয় রেলকে জানান হয় বিশেষ সম্মান।

আগামী ১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পর্বত দিবসে এই উৎসব দ্যা ড্রিমার্স এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে দেখা যাবে রাত ৯টায়। গান গেয়েছেন অরিত্র মুখোপাধ্যায়, রিক বিশ্বাস, নীলাঞ্জন সাহা, ঋতবান গুহ ও সুদীপ্ত চন্দ, সেতারে শুভম ঘোষ,বেহালায় সৌরজ্যোতি চ্যাটার্জি। এই উদ্যোগ নিয়ে সুদীপ্ত চন্দ বললেন,” পাহাড়ে এরকম একটা গানের উৎসব হোক আমার অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল। এখানে বিভিন্ন ধারার মিউজিকের চর্চা হয়,বিভিন্ন জায়গার মিউজিশিয়ানরা আসেন। আর প্রকৃতির কোলে এরকম একটা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল উপভোগ করাও এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা বটে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *