কলকাতায় মারাদোনা! ১২ বছর আগের রাত

ওয়েব ডেস্কঃ

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অত লোক একসাথে আগে কোনদিন দেখেনি। কাচে ঢাকা বাসটা যখন বিমানবন্দর ছেড়ে চলে গেল মনে হল যেন বড়োসড়ো একটা দাঙ্গা হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুরনো টার্মিনালের বাইরে তখন শয়ে শয়ে চটি,জুতো পড়ে রয়েছে। আপনাকে দূর থেকে এক ঝলক দেখতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় ২০০৮ এর ডিসেম্বর মাসের মধ্যরাত্রে সারা শহর যেন এসে পৌঁছেছিল বিমানবন্দরে। মনে আছে আপনার মারাদোনা?

আমাদের দেশটা আজ যেটুকুও পারছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে, তখনও, বিশেষ কিছু একটা করে উঠতে পারেনি। তবু আপনি এলেন। এলেন তাদের কাছে যাদের একটা প্রজন্ম বিশ্ব ফুটবল, বিশ্বকাপ বলতে বোঝে ১৯৮৬র আপনাকেই। তারা দূর থেকে দেখছিল সেদিন বাঁ পায়ের জাদুকরকে। দেখছিল, নাচছিল, গাইছিল, কাঁদছিল! এয়ারপোর্ট থেকে আইটিসি সোনার বাংলা পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে তখন সেই সব মানুষের ঢল নেমেছে যাদের প্রাপ্তির ভাঁড়ার পরিপূর্ণ, আপনাকে শুধু একবার দেখে। মনে আছে আপনার মারাদোনা?

যুবভারতী স্টেডিয়ামে আপনি ঢুকলেন গাড়ি নিয়ে। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সচরাচর গাড়ি ঢোকে না ওই সবুজে। অন্য কেউ হলে প্রতিবাদের ঝড় উঠত, মিডিয়ায় সমালোচনা হত। আপনার জাদুতে সবাই সম্মোহিত তখন। গাড়ির ছাদে অনায়াসে লাফিয়ে উঠলেন। বাঁধ ভাঙল কলকাতার।তারপর মোহনবাগান মাঠ, মহেশতলা, মাদার হাউস যেখানে গিয়েছেন মানুষের আবেগের ঢেউ যেন আছড়ে আছড়ে আছে পড়েছে আপনার পায়ের কাছে।
আপনি বুক ঠুকেছেন ডান হাতে। হৃদয়ের ওপর মুষ্টিবদ্ধ হাত ঠুকে মাথার ওপর সেই হাত ঘুরিয়ে কী বলতে চেয়েছিলেন “আমার হৃদয়ে থাকবে তোমরা”! আপনার মনে পড়ে মারাদোনা?

আপনার ফুটবল, আপনার জীবনযাপন নিয়ে বলার মত যোগ্যতা বা এক্তিয়ার কোনওটাই আমাদের নেই। আমরা আপনার গুণমুগ্ধ। আর তাই আজ আমরা বারবার ভেবেছি খবরটা যেন ফেক নিউজ হয়। ৬০ বছর কি এমন বয়স! কিন্তু না আমাদের কোনও দুরাশাকেই আর প্রশ্রয় দেন নি আপনি। আজ আপনি অনেক দুরে। গত ২০১৬য় ফিদেল কাস্ত্রো মারা যাবার পর আপনি কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, ‘আমার দ্বিতীয় বাবাও চলে গেল, এবার কার কাছে যাব?’ আর আজ ৪ বছর পর আপনিও চলে গেলেন। আর অদ্ভূতভাবে! মাসটা সেই নভেম্বর, তারিখটাও সেই ২৫
আজ যে আপনার প্রিয় ফিদেলেরও মৃত্যুদিন। ভাল থাকবেন

মারাদোনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *