পার্ক স্ট্রিটের বেলুনওয়ালা ও কিছু প্রশ্ন

ওয়েব ডেস্কঃ

বড়দিন আর নতুন বছরের আবহে পার্ক স্ট্রিটের গণ্ডি মাড়ায় নি এমন মানুষ বিরল। সপরিবারে পার্ক স্ট্রিট চত্বরে গেলে ওদের দেখা পাবেনই। হয়ত আপনার জামা ধরে টানবে বা কাতর অনুরোধ করবে ওদের থেকে একটা বেলুন নেওয়ার জন্য। সাজিদ,কোয়েল,মুসাব্বর, সানিয়া,সোহেল, রাহুলরা বয়সে সবাই শিশু। অথচ ওদের শৈশবটাই গিয়েছে হারিয়ে। কোনও সান্তা ক্লজ স্লেজ গাড়ি উড়িয়ে ওদের ঘুমে বালিশের তলায় উপহার রেখে যায় না। ওরা কিন্তু শিশু শ্রমিক। বিজ্ঞাপনের ভাষা যতই বলুক শিশু আর শ্রমিকের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখতে বাস্তবটা অনেক অনেক মাইল দূরে।

সানিয়া ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়ে স্কুল যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। দাড়াপারা বা পার্ক লেনের অনেক শৈশবই ড্রপ আউটের কবলে। বাড়িতে অভাব। তার ওপর কোভিড জনিত লক ডাউন পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলেছে ওদের। সাজিদ বা মুসাব্বরদের বাড়িতে যদিও লক ডাউন চলাকালিন খাবার পৌঁছে দিয়েছে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কিন্তু আনলক শুরু হতেই তাদের আবার বেরোতে হয়েছে জীবিকার সন্ধানে।

এই বর্ষ শেষের দিনগুলো ওদের কাজে কিছুটা অক্সিজেন দিচ্ছে। ওরা জানাল বড়দিনের সময়ে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার ব্যবসা হয়েছে প্রতিদিন। ওদের সাথে কথা বলতে গেলে হাজারো সন্দেহ এসে ভিড় করে ওদের চারপাশে। আসলে কঠিন কঠোর বাস্তবের সাথে যুঝতে গিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে ওদের ছেলেবেলার সহজাত সারল্য। যদিও বা কথা বলে, ছবি তুলতে গেলে আসবেই আপত্তি। নাম বদলে মনগড়া কিছু একটা নাম বলে দেবে। এভাবেই ওরা অভ্যস্ত। আমাদের চোখের সামনে ক্ষণস্থায়ী বেলুনের মতই হারিয়ে যাচ্ছে ওদের শিশু মনগুলো। ওদের নেই শিক্ষার অবকাশ, নেই খাদ্যের নিরাপত্তা। আছে সীমাহীন সন্দেহ প্রবণতা, অপুষ্টি আবার কখনও এই শিশু বয়সে নেশা বা মাদকাসক্তি।

বছর শেষের সময়ে ওদের দেখেও এড়িয়ে না গিয়ে পারলে প্রশ্ন তোলা কি যায় না সেই সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যে কেন এই শৈশব গুলো অকালেই ঝরে যায়? কিছুই কি করা যায় না যাতে ওরা পেতে পারে একটা একটু সুস্থ জীবনযাত্রা। ওদের কাজকে বজায় রেখেও নাইট স্কুল বা সমতুল কোনও শিক্ষা পদ্ধতি কি শুরু করা যায় না ওদের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *